#দিতীয় পর্ব | অমাবস্যার সেই রাত | কলমে~©রিম্পা বিশ্বাস


জনশূন্য এলাকা ,সাবেকি আমলের বাড়ি, দেয়াল গুলো  সাধারণ বাড়ির তুলনায় তিনগুন মোটা  ,সেগুন কাঠের তৈরী ভারী ভারী দরজা , কালো কুচকুচে মেঝে ধুলো জমে ধূসর রঙে পরিণত হয়েছে ,ছাদ এর গা বেয়ে দেয়ালে ফার্ন জাতীয় পরোজীবি উদ্ভিদ জন্মেছে , পুরো ঘরটাতে একটা দমবন্ধ করা পরিবেশ , ভিতরে অক্সিজেন এর কমতি অনুভব হচ্ছে , নাহ এখানে সুস্থ মানুষ কিছুতেই বাস করতে পারে না , নাহ খুড়ো এখানে থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না সাফ জানিয়ে দেয় হিমাদ্রি ,
বাবু আপনাদের কোনো অসুবিধা হবে নে, আমি পাশের আদিবাসী গ্রাম থেকে লোক ডেকে সবটা পরিষ্কার করিয়ে রাখবো ,শুধু আপনেরা  অমত করবেন নে।
 আসলে বাবু আমি বুড়ো মানুষ বয়স হয়েছে, একা এত বড় বাড়িটা আগলে পড়ে রয়েছি আজ এতগুলো বছর  মায়া ছাড়তে পারি নে যে ।সারা বাড়ি পরিস্কার করার ক্ষমতা হয় নে এই বয়সে এসে , তবে আপনেরা চিন্তা করবেন নে আমি সবটা করিয়ে রাখবো, জানায় চেতন।

আচ্ছা শুভ্রার যখন এই ইচ্ছে আর তুমিও আস্বস্ত করলে তখন তাই হোক , আমরা তবে সামনে সপ্তাহেই শিফট করছি তার মধ্যে যা পরিস্কার করার সব  করে ফেলতে হবে কিন্তু ,আজ তবে চলি, বলে নীচে নেমে এলো হিমাদ্রি ,
কিছু মনে করবেন নে বাবু এই অধম এর কাছে দুটি খেয়ে যাবেন ,আপনাদের আসার খবর পেয়ে আমি গ্রাম থেকে মাংশ আনিয়ে ছিলুম ,চিন্তে করবেন নে এই চেতন এর রান্নার সুনাম আছে বৈকি ,খেয়ে দেখবেন নাম করতে হবে হুম ;
নাহ নাহ ওদিকে বেলা গড়িয়ে এলো আর দেরি করলে চলবে না ট্যাক্সি টাও দাঁড়িয়ে অনেকক্ষন ,মাফ করো খুড়ো অন্য একদিন নাহয় খাবো ক্ষন তোমার রান্না ,
বলে বেরিয়ে এসে ট্যাক্সি তে চড়ে বসলো হিমাদ্রি আর শুভ্রা ।
বেলা গড়ানোর সাথে সাথে জঙ্গল টা যেন আরো রহস্যময় হয়ে উঠেছে ,
বাড়ি ফেরার পথে নিরপুর এর  রাস্তায় এক ধাবা থেকে খেয়ে নিয়েছিল দুজনে , অবেলায় খাওয়া অভ্যেস নেই হিমাদ্রির ,
বাড়ি ফিরে শুভ্রা কে জানিয়ে দিল ,সে আর রাতে কিছু খাবে না , অযথা কোনো খাবার যেন তার জন্যে না বানানো হয়। শুভ্রাও রাতে একটু দুধ আর ব্রেড খেয়ে শুয়ে পড়লো ,শরীর টা কেমন যেন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছে ,ঘুম জড়িয়ে আসছে , দেরি না করে দুজনে ঘুমিয়ে পড়লো ,সকালে আবার হিমাদ্রির অফিস ।

তৃতীয় পর্ব

একসপ্তাহ পরের ঘটনা হিমাদ্রি আর শুভ্রা বাঙলো তে শিফট করার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে ফ্লাট এর আসবাব পত্র বাইরে গাড়িতে তোলা হয়ে গেছে ,সোসাইটির সকলকে বিদায় জানিয়ে রওনা দিলো ওরা।

কিছুক্ষন পর এসে উপস্থিত হলো বাঙলো টার সামনে । বাঙলো টা আগের দিনের থেকে অনেকটা জীবন্ত লাগছে ,
চেতন খুড়ো  বাঙলো টা কথা মতো পরিস্কার করে রেখেছে ।
গাড়ির সাথে যারা এসেছিলেন আসবাবপত্র সঠিক জায়গায় রেখে দিয়ে চলে গেলেন ।
এতক্ষনে হিমাদ্রি আর শুভ্রা হাতমুখ ধুয়ে জামাকাপড় বদলে এলো ওদের ঘরটাতে, ঘরটা বেশ বড় ,পরিস্কার করার পর যেন লাবণ্য ফিরে পেয়েছে , শীতের বিকেল দক্ষিনি খোলা জানালা দিয়ে হিমশীতল বাতাস ঘরে ঢুকছে ,দেরি না করে তাড়াতাড়ি জানালার পাল্লা টা টেনে দিলো হিমাদ্রি ,
এ কি লোডশেডিং হয়ে গেল !
চেতন খুড়ো কে ডাক দিল শুভ্রা ,
খুড়ো একটা লণ্ঠন নিয়ে দরজায় হাজির হলে বিরক্তি চিত্তে প্রশ্ন করে কারেন্ট ফিরবে কখন ,উত্তরে খুড়ো জানায় একটু দূরে কোথায় নাকি গাছ ভেঙে  পড়েছে ইলেকট্রিক পোলে তাই আজ আর কারেন্ট আসবেনা ,যা হবার কাল সকালে বলে একটা কেরোসিন এর চিমনি জেলে দোরগোড়ায় রেখে চলে গেলন ।

উফফ বড্ড বিরক্তিকর অন্ধকার একদম সহ্য হয়না শুভ্রার ,সেখানে প্রথমদিন  পা ফেলতে না ফেলতেই কারেন্ট অফ , রাগে অস্বস্তিতে কিছু বলতেও পারছে না শুভ্রা কারণ জানে হিমাদ্রির প্রথম থেকেই পছন্দ ছিল না বাঙলো টা তার জেদের জন্যেই আসতে হয়েছে হিমাদ্রি কে ।এখন কিছু বলতে গেলে উল্টে একগাদা কথা শুনিয়ে দেবে সে।
এদিকে বাথরুম যাবার ও দরকার শুভ্রার ,পেটের ভেতর টা কেমন মোচড় দিয়ে উঠছে,অগত্যা চিমনি হাতে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল বাথরুম এর দিকে ,
বাথরুম এ গিয়ে বসতেই শুভ্রার মনে হলো কেউ যেন ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে ,অনুভব করা যায় ,কিন্তু বাড়িতে তো খুড়ো বাদে কেউ থাকে না ,
বাথরুম এর জানালা টা বেশ উপরে উঠে দাঁড়ালেও বাইরের কিছু সহজে দেখা যায় না , জানালার দিকে তাকিয়ে শুভ্রা দেখে কিছুই নেই তবে কেন এমন অনুভব হলো?
কোনোমতে বাথরুম সেরে ঘরে এলো শুভ্রা ,এসে দেখে ঘরে হিমাদ্রি নেই ,এমনিতে সাহসী মেয়ে শুভ্রা কিন্তু আজ কেমন যেন গা টা ছমছম করছে মনে হচ্ছে ।হটাৎ ঘরের ভেতর কিসের একটা ছায়া সরে গেল মনে হলো ,এবার শুভ্রা একটু হন্ততন্ত হয়ে চিমনি টা হাতে নিয়ে  এক দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে
সিঁড়ি দিয়ে নিচের নামতে যাবে এমন সময়
একটা ধপ করে আওয়াজ ,

আওয়াজ শুনে হিমাদ্রি নীচে খুড়োর ঘর থেকে দৌড়ে এসে দেখে শুভ্রা সিঁড়ির গোড়ায় অজ্ঞান অবস্থায় পরে রয়েছে ,মাথা ফেটে রক্ত পরছে ,চিমনি টা সিঁড়ির ওপর ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে ,সারা সিঁড়ি তে কেরোসিন তেল ময়ময় করছে।

ক্রমশ.........

গল্পের পরবর্তীঅংশ আপডেট  কাল দেয়া হবে।
Previous
Next Post »

Translate