#প্রথম পর্ব | অমাবস্যার সেই রাত | ভৌতিক কাহিনী | কলমে -©রিম্পা বিশ্বাস


#প্রথম পর্ব
 হিমাদ্রি আজ বেশ আনন্দিত লিভিং রুম এ বসে কফির কাপ এ চুমুক দিতে দিতে উইকেন্ডে পিকনিক প্ল্যান করছে ।
ঘড়িতে সকাল সাড়ে সাতটা বাজে ,শুভ্রার মেজাজটাও বেশ ফুরফুরে ,কিচেন এ জলখাবার বানানোর সাথে সাথে হিমাদ্রির সাথে বাক্যবিনিময় করছে যথারীতি ।

হিমাদ্রি আর শুভ্রার বিয়ে হয়েছে বছর খানেক হবে ,  হিমাদ্রি একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করছে গত চার বছর ধরে ,এরই মধ্যে কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি ঘটেছে হিমাদ্রির । শুভ্রা বিয়ের আগে একটা প্রাইভেট সেক্টর এ চাকরি করতো বিয়ের পর স্বইচ্ছায় চাকরি টা ছেড়ে দেয় , হিমাদ্রির চাকরি টা বাড়ি থেকে অনেকটা দূরত্বে ফলে দুজনে আলাদা দু শহরে থাকার পরিবর্তে একই সাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় ,
এদিকে কিছুদিন পর যখন হিমাদ্রির কাজের চাপ বাড়তে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা ওভারটাইম করেও বাড়ী ফিরে অফিসের কাজে ব্যস্ত ,সেসময় শুভ্রা ডুবে যেতে থাকে একাকিত্বে , সময় কাটাতে শুভ্রা দুস্থ শিশু ,পথশিশু দের নিয়ে কাজকরে এমন একটা এনজিও জয়েন করে।

এতদিন হিমাদ্রি আর শুভ্রা একটা ছোট এপার্টমেন্ট ভাড়া করে থাকতো , পদোন্নতি হওয়াতে কোম্পানি থেকে বাঙলো অফার করা হয়েছে ,তাতে অবশ্য হিমাদ্রি প্রথমে নাকচ করে দেয় ,পরে শুভ্রার বায়নায় অফার টা গ্রহণ করে , আজ হিমাদ্রির ছুটি তাই ঠিক করেছে জলখাবার খেয়ে দুজনে বেরোবে বাঙলো দেখতে।

খাওয়াদাওয়া সেরে দুজনে চেপে বসলো গাড়িতে , স্টার্ট দিতে গিয়ে দেখে গাড়িতে স্টার্ট নিচ্ছে না ,কিন্তু এই তো আগের সপ্তাহেই সার্ভিস করিয়ে আনা হলো ,তেল ভরে রাখা ,তবে হলো কি ?অগত্যা বিরক্তি চিত্তে গাড়িথেকে নেমে দাঁড়ালো শুভ্রা , এ তো মহা বিপদ হলো বেলা গড়িয়ে দুপুর হচ্ছে ,এদিকে  বাঙলো টা যেদিকে সেদিকে নাকি সচরাচর ট্যাক্সি যেতেও চায় না ,

অফিস থেকে বেশি দূরে নয়,  শহরের  কানাচেই অবস্থিত একটা ছোট্ট গ্রাম ,সেখানেই রয়েছে বাঙলো টা ,তবে শুনেছে জনবসতি নাকি তেমন গড়ে ওঠে নি সেখানে , পাশেই সাঁওতাল অধ্যুষিত এলাকা, তাই প্রথম থেকেই অপছন্দ ছিল হিমাদ্রির , কিন্তু শুভ্রার বাড়াবাড়ির জন্যই আজ দেখতে যেতে হচ্ছে ,

এমনিতে কুসংস্কার এ বিশ্বাসী নয় হিমাদ্রি কিন্তু আজ গাড়িটা বেগরবাই করাতে খানিকটা বিরক্ত হয়েই বললো দেখলে তো শুভ্রা ,যাত্রাপথের শুরুতেই বাধা পড়লো ছেড়ে দাও আজ যেতে হবে না ,পরের ছুটির দিন দেখা যাবে ।
শুনেই রাগে গর্জে ওঠে শুভ্রা ,আজই যাবো দরকার হয় ট্যাক্সি করে যাবো।।।

অতঃপর বেশি ভাড়া অফার করায় এক ট্যাক্সিওয়ালা নিয়ে যেতে রাজি হয়,খানিক দূর যেতেই হাই রোড ছেড়ে সরু মাটির রাস্তা ধরলো গাড়িটা, গ্রামের ভিতরে প্রবেশ করতেই মনে হলো সভ্যতার আলো  যেন  এই জায়গাটায় পৌঁছায় নি ,
ঘটঘটিয়ে চলছে ট্যাক্সি টা ,রাস্তার দু ধার দিয়ে পুরোনো আমলের বিশাল আকার গাছগুলো মনে হচ্ছে দু হাত তুলে আলিঙ্গন করছে ওদের ,অদ্ভুত একটা নিস্তব্ধতা গ্রাস করে আছে চারিদিকে ,কোনো জনমানব চোখে পড়ছে না , বেশ কিছুদূর চলার পর মনে হলো জঙ্গল আরো ঘন হচ্ছে , শীতের পড়ন্ত বেলায়  সূর্যের নরম আলো যেন জঙ্গলে  প্রবেশ করতে সংকোচ বোধ করছে ।
কিছুদূর গিয়ে গাড়িটা একটা দোতলা বাড়ির সামনে গিয়ে থামলো ।
বাড়িটা চার দিকদিয়ে উঁচু পাঁচিলে ঘেরা ,
বাইরে থেকে বোঝা যায় সাবেকি আমলের বাড়ি ,সদর দরজায় দু তিন বার টোকা দেয়ায় একটা বৃদ্ধ কণ্ঠস্বর ভেসে এলো
দরজা খুলতেই একমুখ হাসি নিয়ে বৃদ্ধ বললেন আসুন কত্তা বাবু আমি আপনাদের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম ।খানিকটা বিস্মিত হয়েই হিমাদ্রি প্রশ্ন করে ,
কিন্তু আমরা যে আজ আসবো আমি তো জানাইয়নি ? বৃদ্ধ লোকটি প্রত্যুতোরে জানায় অফিসের সেন বাবু নাকি জানতেন , তিনিই নাকি বলেছিলেন । অথচ সেন বাবু তো ছুটিতে ! তিনি কিভাবে .........

শুভ্রা বাড়ির ভেতরটা দেখবার জন্যে উতলা হয়ে উঠেছে ,এদিকে পরিবেশ ,পরিস্থিতি কোনোটাই সুবিধার লাগছে না হিমাদ্রির ,বাড়িটা না দেখেই ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু বাধ সাদল শুভ্রা ,সে কিছুতেই না দেখে ফিরবে না।

আলাপচারিতায় বাড়লে জানা যায় বৃদ্ধ লোকটির নাম চেতন গত চল্লিশ বছরের বেশি সময় এই বাড়ি আগলে পরে রয়েছেন,
কলতলার পাশে একটি গুপচি ঘরে থাকেন তিনি ।
হিমাদ্রি আর শুভ্রার জন্য উপরের অংশ টা বরাদ্দ হয়েছে ,  ঘর দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয় দুজনকে , সিঁড়ি তে  ধুলো জমেছে ,
বোঝাযায় বেশ কিছুদিন ধরে অযত্নের শিকার , উপরে উঠতেই দেখতে পেল বড়বড় মাকড়সা বাসা বেঁধেছে সারা বারান্দা জুড়ে , ঘরের দরজা খুলতেই একটা ধুলোর ঝড় বয়ে গেল মনে হচ্ছে ,
 
ক্রমশ...........

গল্পের দ্বিতীয়পর্ব আপডেট পেতে সঙ্গে থাকুন ।
Previous
Next Post »

Translate